উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ

সুন্দর এ পৃথিবীকে আরও সুন্দরতম করে তুলেছে,আমাদের বাসযোগ্য করে তুলেছে উদ্ভিদ। সভ্যতার ক্রম বিকাশে উদ্ভিদের অবদান অবর্ণনীয় । শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভিদ নিয়ে পাঠদানকারী গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ । ১৯৭২ সাল থেকে এ বিভাগে বি. এস .সি (সম্মান ) ও ১৯৮৪ সাল থেকে মাষ্টার্স চালু হয় । বর্তমানে এ বিভাগে ১ম বর্ষ সম্মানে ১৫০ জন, মাষ্টার্স ১ম পর্বে ২৫ জন এবং মাষ্টার্স শেষ পর্বে ১৭৫ জন ছাত্রী ভর্তি হয় । মাত্র ৫ জন ছাত্রী নিয়ে পথ চলা শুরু করা উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বর্ষে নতুন পুরাতন মিলিয়ে মোট ছাত্রী সংখ্যা ৯০০ জন । প্রতি বছর প্রায় ২০০ জন ছাত্রী পাশ করে এবং অনেকেই  সরকারী ,বেসরকারী ,  বিভিন্ন সংস্থায় চাকুরীতে যোগদান করে ।

          বর্তমানে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের যুগে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহনে এ বিভাগও সামিল হয়েছে । উন্নত শিক্ষাদান করার জন্য এ বিভাগের শিক্ষকগণও ডিজিটাল কনটেন্ট এর উপর বিভিন্ন প্রশিক্ষন গ্রহন করেন এবং সেই অনুযায়ী নিয়মিত ২ টি ক্লাশরুমে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করেন । উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের  ছাত্রীদের উদ্ভিদ সম্পর্কে পরিচিতি লাভের জন্য এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্লাশে উদ্ভিদ সরবরাহের জন্য এবং বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরন সরবরাহকারী হিসেবে এবং একটি জীবন্ত গবেষণাগার হিসেবে এ বিভাগে  একটি সংরক্ষিত বাগান আছে । এ বছর ৩রা জানুয়ারী এ বাগানে একটি নেট হাউজ উদ্বোধন করা হয় । এখানে তিনটি চৌবাচ্চায় বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ কালচারের ও সংরক্ষন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে । এ ছাড়া  ও  বিভিন্ন জাতের অর্কিড ও ক্যাকটাস ও রাখা হচ্ছে । এ বিভাগের সদ্য অবসর প্রাপ্ত ( পি. আর. এল ) বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মাকসুদা বেগম স্বউদ্দ্যোগে এবং তিনি নিজে  এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যুগম সচিব মোঃ আলমগীর  এর যৌথ অর্থায়নে এই নেট হাউজটি স্থাপিত হয় । এ ছাড়া একটি আধুনিক  ল্যাবরেটরী  তৈরীর পরিকল্পনাও আছে । আমাদের সুযোগ্য অধ্যক্ষের সহায়তায় এটা ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায় ।

          এ বিভাগে দেশী -বিদেশী লেখকদের লেখা  প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বই সমৃদ্ধ সেমিনার আছে । সেমিনারটি প্রয়াত অধ্যাপক নাইয়ার সুলতানার  ( বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর মাতা) নামে  নামকরন করা হয়েছে ।

       প্রতিবছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রথম ২০ জনের মধ্যে ১ম,২য়, ও ৩য় স্থান সহ অনেক স্থান লাভ করে এবং   Vice Chancellar Award লাভ করে । ২০১০ সালের (২০১২ ই অনুষ্ঠিতব্য ) এম.এস.সি. শেষ পর্বে একজন শিক্ষার্থী প্রথম থিসিস  নিয়ে শিক্ষা সমাপ্ত করে । এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বহির্ভূত কার্যক্রমেও সমান দক্ষতা সম্পন্ন ।

উদ্ভিদের মত সহিঞু হয়ে, ফলের সৌরভে সুবাসিত করে এ বিভাগের ছাত্রীরা জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে সাফল্যমন্ডিত হউক, তাদের সুনাম ও কীর্তি ছড়িয়ে পড়ুক চারদিকে।

 

‘ ফুলের সাথে দেবে আনন্দ আশা

দেবে প্রীতি ও ভালবাসা।

দেবে মায়া মমতা ব্যাকুল করা

ফুলে ফুলে ভরে দেবে

আমাদের এই বসন্ধরা।’