রসায়ন বিভাগ

শত বর্ষ পার করে দ্বিতীয় শতকে চলমান ঐতিহ্যবাহী নারীশিক্ষার পীঠস্থান এই ইডেন মহিলা কলেজ। ১৯৪০ সালে বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির সূচনা লগ্নেই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রসায়ন বিভাগের পত্তন হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের ঊষালগ্নে ১৯৭২ সালে এই বিভাগে প্রথম বি.এসসি (সম্মান) কোর্স চালু হয় এবং ১৯৭৪ সালে স্নাতোকোত্তর কোর্স চালু হয়। বর্তমানে রসায়ন বিভাগের ছাত্রী সংখ্যা ৬০০ এর ঊর্দ্ধে। এ বিভাগে চালু রয়েছে ৪ বছর মেয়াদী বি.এসসি (সম্মান) কোর্স, এম.এসসি (প্রিলিমিনারী) ও এম.এসসি (শেষ পর্ব) । এছাড়াও পদার্থ, গণিত, উদ্ভিদ ও প্রাণীবিদ্যার প্রায় ১২০০ ছাত্রীর নন-মেজর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া হয়। এখানে এ শতাব্দীর শুরু থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে  স্নাতোকোত্তর পর্যায়ে বিসিএসআইআর ল্যাবের সহায়তায় গবেষণা করানো হয়। এ বছরও কিছু সংখ্যক ছাত্রী গবেষণা অভিসন্দর্ভ (থিসিস) জমা দিয়ে প্রথম শ্রেণীতে সফলতা পেয়েছে। তারা দেশের রসায়ন শিল্পের অনেক প্রয়োগিক দিক ও ঔষধ শিল্প নিয়ে গবেষণা করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে বিভাগের ছাত্রীরা ও কিছু শিক্ষক রেখেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। নাচ, গান,কবিতা, বিতর্ক, অভিনয়, রচনা প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাদের রয়েছে সাফল্যের ইতিহাস। শিক্ষক মন্ডলীর অদম্য উৎসাহ একাগ্রতা ও নিষ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়ে চলেছে এই বিভাগ।

উচ্চশিক্ষা দানকারী এই কলেজের ২২ টি বিভাগের মধ্যে এটি অন্যতম। এখানে রয়েছে ৩ টি ক্লাস রুম, ৪ টি ল্যবরেটরী, ১ টি স্টোর, ১ টি সেমিনার কক্ষ, ১ টি বিভাগীয় প্রধানের কক্ষ ও ১ টি শিক্ষক মন্ডলীর কক্ষ। এ বিভাগে রয়েছে ১২ টি শিক্ষক পদ ও ২ টি প্রদর্শক পদ।

বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গত ১৮.৭.২০১৪ ইং তারিখে শিক্ষান্ত্রণালয়ের নির্দেশে অধ্যক্ষ মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেমিনার ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় বিভাগের ২ টি শ্রেণী কক্ষকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পরিণত করা হয়েছে। যা উদ্বোধন করেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়। বিভাগীয় প্রধানের সকল নব ও আধুনিকায়নের উদ্যোগকে সহায়তা যুগিয়ে চলেছেন বিভাগের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ। দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার ঘোষিত জাতীয় নীতিতে অনবদ্য অবদান রাখতে পারবে এ বিভাগ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।