বিএনসিসি

                                                                                 বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)
                                                                                        ইডেন মহিলা কলেজ প্লাটুন - ১ ও ২
                                                                                                       বি কোম্পানী
                                                                           ১ বিএনসিসি ব্যটালিয়ন, রমনা রেজিমেন্ট, উত্তরা, ঢাকা

 

ইডেন মহিলা কলেজে বিএনসিসি প্লাটুন

১৯৭৯ সালে ইডেন মহিলা কলেজে প্লাটুন উন্মুক্ত করা হয়। সর্বপ্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন ড. আয়েশা খাতুন। ইডেন মহিলা কলেজে বর্তমানে দুটি প্লাটুন রয়েছে, যেখানে মোট ক্যাডেটের সংখ্যা ৬৬ জন। প্রতি বৎসর ইডেন কলেজের ছাত্রীদেরকে কলেজ প্লাটুনে ভর্তি করা হয় এবং সামরিক এবং বেসামরিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতি বৎসর ক্যাডেটরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করে এবং কৃতিত্বের স্বীকৃতি আদায় করে আনে। কলেজ প্লাটুন থেকে প্রতি বৎসর একাধিক ক্যাডেট বিভিন্ন দেশে শিক্ষাসফরে যেয়ে থাকে।

সরকারিভাবে আমন্ত্রিত ক্যাডেট হিসেবে ভারত, সিংগাপুর এবং মালদ্বীপে শিবিরে অংশগ্রহণে করেছে। কলেজের তহবিল হতে ক্যাডেটদের ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবৎসর দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাসফরেরও আয়োজন করা হয়। ক্যাডেটরা কলেজের প্রয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

ইডেন মহিলা কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শামসুন নাহার-এর পরামর্শ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে কলেজের বিএনসিসি প্লাটুন দুটি পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর নির্দেশনায় ক্যাডেটদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সাপ্তাহিক দুইদিন সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় ক্যাডেটদেরকে। অধ্যক্ষ মহোদয়ের নির্দেশক্রমে কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যাডেটরা স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি বিএনসিসি সদর দপ্তরের নির্দেশনাক্রমে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করা হয়। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকা শহরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ক্যাডেটরা দায়িত্ব পালন করে। এ পর্যন্ত ২৬ জন ক্যাডেট আন্ডার অফিসার হতে পেরেছে এবং এ পর্যন্ত ১৩ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন বা করছেন। বর্তমানে কলেজের দুটি প্লাটুনে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর মাহফিল আরা বেগম (১ নং- প্লাটুন), ইতিহাস বিভাগ এবং প্রফেসর ড. আবু ইব্রাহীম মহাঃ নূরুল হুদা (২ নং- প্লাটুন) সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। সর্বশেষ ক্যাডেট আন্ডার অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে খায়রুন নাহার নিলীমা।

ইডেন মহিলা কলেজে আরও একটি বিএনসিসি প্লাটুন উন্মুক্তকরণ বিবেচনাধীন রয়েছে। এই প্লাটুনটি হবে ব্যান্ড প্লাটুন। আধুনিক ব্যান্ড সামগ্রীতে দক্ষ করে তোলা হবে একদল ব্যান্ডবাদককে। অচিরেই আমরা আশা করি এই প্লাটুনটি উন্মুক্ত হবে।      

 


বিএনসিসি মনোগ্রাম

১.    লাল সার্কেল - ফরমেশন সাইনের বাইরের লাল সার্কেল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদগণের লাল রক্তের প্রতীক।
২.    কালো সার্কেল - অভ্যন্তরীণ কালো সার্কেল কালির প্রতীক, যা জ্ঞানের উৎস।
৩.    জ্ঞান এবং শৃঙ্খলা - কালো সার্কেলের উপরে বিএনসিসি-র মূলমন্ত্র।
৪.    সোনালী সার্কেল - এটি সোনার বাংলাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
৫.    পিরামিড - কেন্দ্রে পিরামিডটি জীবনে সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে, উপরে উঠা সবসময় কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। ক্যাডেটদের এ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
৬.    পিরামিডের রং - তিন রংয়ের পিরামিড তিন বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করে, আর্মি, নেভি এবং এয়ার, যা বিএনসিসি ক্যাডেটদেরকে প্রশিক্ষিত করে এবং গ্রুমিং করে ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য।
৭.    স্বেচ্ছাসেবী - মানুষের মৌলিক এবং মূল ভিত্তি হলো স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সেবা প্রদান করা ভয় বা ভীতি ছাড়া। এভাবে বিএিনসিসি-র লক্ষ্য হলো স্বেচ্ছাসেবী।
৮.    তারকা - প্রজ্জলীত হয় এবং অপরকে উজ্জল করে। স্বপ্নের পেশাগত জীবনে ক্যাডেটরা যেন উজ্জীবিত হতে পারে।

   
বিএনসিসি-র সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর (১৯২১) ইন্ডিয়ান টেরিটোরিয়াল ফোর্সেস এ্যাক্ট-১৯২৩ অনুসারে কোর গঠিন হয়। ক্যাপ্টেন ই. গ্রæম ছিলেন কোরের প্রথম এ্যাডজুটেন্ট, তিনি ১০০ জন ছাত্রকে এবং ১৬ জন শিক্ষককে ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৯২৮ সালের জুন মাসে ইউনিভার্সিটি ট্রেনিং কোর দাপ্তরিকভাবে গঠিত হয়; ১৯৪৩ সালে, কোরের নাম পরিবর্তন করে ইউনিভার্সিটি অফিসারস ট্রেনিং কোর (ইউওটিসি) নামকরণ করা হয়। এই কোরের সদস্যরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, স্বাধীনতার পরে, বাংলাদেশ ক্যাডেট কোর গঠিত হয় কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এবং জুনিয়র ক্যাডেট কোর গঠিত হয় জুনিয়র ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। ১৯৭৯ সালের ২৩ শে মার্চ, ইউনির্ভার্সিটি অফিসার্স নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর-এ নামকরণ করা হয়। জুনিয়র এবং সিনিয়র ক্যাডেট কোর একত্রে এই নামকরণের আওতায় আসে।

বিএনসিসি-র প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আর্মি, নেভি এবং এয়ার উইং-এ বিভক্ত করা হয়। বর্তমানে, এর সদর দপ্তর সেক্টর-৬, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০-এ স্থাপিত। বিএনসিসি-তে তিন ধরনের ক্যাডেট রয়েছে, সিনিয়র ডিভিশন যেখানে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে নারী এবং পুরুষ ক্যাডেট রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কেবিনেট একটি আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনতে এবং অধিদপ্তরের আওতায় আনতে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেন। প্রস্তাবের নামকরণ হয়- বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট অপঃ-২০১৬। , একটি পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা হবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর-এর সাথে ইযুথ এক্সচেজ্ঞ প্রোগ্রাম রয়েছে ভারত, সিংগাপুর, নেপাল, মালদ্বীপের সাথে। প্রতি বৎসর ৫৬ জন ক্যাডেট এইসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে থাকে। সমপরিমাণে বিদেশী ক্যাডেটও বাংলাদেশ সফরে আসে। এর উপকারিতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এই সফরের মাধ্যমে ক্যাডেটরা একে অপরকে জানতে পারে, সংস্কৃতি সম্পর্কে, ঐতিহ্য সম্পর্কে, জানতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হয়।


বিএনসিসি-র মূলমন্ত্রঃ  জ্ঞান এবং শৃঙ্খলা
     

বিএনসিসি-র নীতিঃ  স্বেচ্ছাসেবক

 
বিএনসিসি-র উদ্দেশ্যঃ

স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্রশিক্ষিত করা যার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করা যার ফলে জাতির জন্য তাদের সেবা প্রদান করতে পারে এবং শান্তি এবং সমরে সংগঠিত এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ স্বেচ্ছাসেবি হতে পারে।  


বিএনসিসি-র দায়িত্ব এবং কর্তব্যঃ

১.    জাতীয় দুর্যোগের সময়ে জাতিকে সেবা প্রদান করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা;
২.    মানুষের তৈরি বা প্রকৃতিক দুর্যোগের সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ নাগরিকদেরকে সেবা প্রদান করা;
৩.    জাতীয়  অখন্ডতাকে সমুন্বিত রাখতে আর্মড ফোর্সেসকে সহায়তা প্রদান করা;
৪.    সরকার প্রদত্ত যেকোন দায়িত্ব পালন করা।