সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

নারী শিক্ষার সুপ্রাচীন বিদ্যাপিঠ ইডেন মহিলা কলেজে ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ছাত্রীদের নিয়ে শুরু হয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সম্মান এবং মাস্টার্স শ্রেণির অগ্রযাত্রা। যে যাত্রা শত শত মেধাবী ছাত্রীদের পদচারণায় ধন্য হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বিভাগ যেসকল সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলির নিকট তাঁদের নিঃস্বার্থ এবং নিবেদিত সেবার কাছে ঋণী তাঁরা হলেন, সর্বজনাব ওয়াসেকা বানু, প্রফেসর মাহফুজা চৌধুরী (পরবর্তীতে যিনি অত্র কলেজের অধ্যক্ষ হন), প্রফেসর রেবেকা সুলতানা, প্রফেসর শামসুন নাহার, ইমাম আলী, রওশন আরা হ্যাপি, প্রফেসর হোসনে আরা (বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন) প্রমুখ।    

 

বিভাগ মাত্র ৫০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন শুধুমাত্র প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হয় ২৮০ জন ছাত্রী এবং মাস্টার্স শেষ বর্ষে ভর্তি হয় ৩০০ জন ছাত্রী। ফলে বিভাগ প্রায় ১৮শতাধিক ছাত্রীদের নিয়ে সার্বক্ষণিক মুখরিত থাকে। বাংলাদেশের সকল বিদ্যাপীঠে সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম কনিষ্ঠ একটি বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞান সকলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইডেন মহিলা কলেজের চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। কারণ সমাজবিজ্ঞান আদিম মানব সমাজ থেকে শুরম্ন করে প্রাক-পুঁজিবাদী সমাজ সম্পর্কে এবং নিজ সমাজের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয় সম্পর্কে বস্ত্তনিষ্ঠ এবং মূল্যবোধনিরপেক্ষ সম্যক ধারনা প্রদান করে। প্রায়শই বিভাগের পাঠ্যসূচিতে যোগ হচ্ছে বাসত্মবসম্মত আধুনিক বিভিন্ন কোর্সসমুহ। বর্তমানে বিভাগ যেসব গুরুত্বপূর্ণ কোর্সসমুহ পরিচালনা করে তার মধ্যে অন্যতম হলো: সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান, ধর্মের সমাজবিজ্ঞান, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক অসমতা, সামাজিক জনবিজ্ঞান, সামাজিক পরিসংখ্যান, অর্থনীতির মৌলনীতি, রাষ্ট্রচিন্তুা, সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক চিন্তা ও তত্ত্বের  ক্ষেত্রে আধুনিক ও ধ্রুপদী সমাজবিজ্ঞানীর অবদান প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে সামাজিক গবেষণা ও মনোগ্রাফ লিখন নামে  একটি পূর্ণাঙ্গ কোর্স, যা সম্মান ৪র্থ বর্ষের ছাত্রীদেরকে পাঠদান করানো হয়। এই কোর্সটি নিজ সমাজ সম্পর্কে  বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে পূর্ণাঙ্গভাবে এবং নিবিড়ভাবে জানতে ছাত্রীদেরকে সহায়তা করে থাকে এবং তাঁদেরকে প্রকৃত অর্থেই সমাজবিজ্ঞানী করে তোলে। ছাত্রীরা বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে শিক্ষা নিয়ে এবং নিজ সমাজের কোন গবেষণাধীন সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষা প্রয়োগ করে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সফলভাবে গবেষণা মনোগ্রাফ রচনা করে থাকে। পাশাপাশি রয়েছে পাঠ্যসূচি মোতাবেক বিভিন্ন নির্বাচিত বিষয়ের বা ইস্যুর উপরে টার্ম পেপার রচনা, যা ছাত্রীদেরকে সৃজনশীল এবং মেধাবী করে তোলে।  

 

বর্তমানে বিভাগে একটি প্রফেসরের, দুটি সহযোগী অধ্যাপকের, একটি সহকারী অধ্যাপকের, দুটি প্রভাষকের পদ রয়েছে। তবে উক্তপদসহ বিভাগে কর্মরত বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা আটজন। তাঁরা তাঁদের নিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা, এবং অভিজ্ঞতাসহ প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে তাঁদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বিভাগের সকল মেধাবী শিক্ষকগণের মধ্যে কয়েকজন পিএইচ.ডিধারী শিক্ষকও রয়েছেন। যাঁদের সকলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত তাদের পাঠগ্রহণ করে চলেছে। একাডেমিক বিষয়ের বাইরে শিক্ষকগণ বিভাগের ছাত্রীদেরকে আমাদের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আদর্শ, লোকসাহিত্য, সংস্কার, লোকাচার সম্পর্কে নিবিড় ধারনা প্রদান করেন, যার ফলে অত্র বিভাগ সামাজিকীকরণের একটি মাধ্যম হিসেবে ভহমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে ছাত্রীরা সমাজে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, সহানুভহতিশীল একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারছে। সমাজে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, সমস্যাকে মোকাবেলা করার মানসিক সাহস সম্পর্কে ছাত্রীদেরকে ধারনা প্রদান করার জন্য বিশেষ ক্লাস গ্রহণ করা হয়। ছাত্রীরা যেন তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারনে ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার না হয় সেজন্য কলেজের অধ্যক্ষের বিশেষ পরামর্শে বিভাগের মহিলা শিক্ষকগণ বিশেষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেসব ছাত্রীদেরকে কলেজের ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবাদানকারী মনোরোগ চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হবার পরামর্শ দেন। এসব ব্যক্তিগত কারনে কলেজের শিক্ষকগণ খুব সহজেই ছাত্রীদের শ্রদ্ধা ও ভাললাগার ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।