ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

শতাব্দীর সুপ্রাচীন বিদ্যানিকেতন ইডেন মহিলা কলেজ সত্যিই যেন এক ‘স্বর্গোদ্যান’। আর সেই উদ্যানে পুষ্প পত্র পল্লবে সুশোভিত ইডেন মহিরুহের একটি। ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শাখা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ । বস্ত্তত ইতিহাস ও সংস্কৃতি ছাড়া জ্ঞানচর্চা সম্পূর্ন হয় না । আর এই ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানার একটি পরিপূর্ণ বিষয় হলো ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি । এ বিষয় বলতে অনেকে কেবল শুধু কোরআন ও হাদিস সম্পর্কিত বিষয় বলে মনে করেন, কিন্তু বিষয়টি  আসলে তা নয় । এই বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত রয়েছে এশিয়া ,ইউরোপ আফ্রিকা তথা সমগ্র বিশ্বের  মুসলমানদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বিশ্বের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সভ্যতার উত্থান পতন, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্পকলা ও স্থাপত্যের ইতিহাস ছাড়াও প্রাচীন বঙ্গদেশ থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় পর্যন্ত বাঙালি জাতির একটি অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়  এর পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভূক্ত । এ বিভাগের অনেক প্রতিভাময়ী ছাত্রী বি.সি.এসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় তাদের প্রত্যয় দৃপ্ত সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে । এ বিভাগে ১৯৮১ সালে সম্মান, ১৯৯৫ সালে মাস্টার্স ১ম পর্ব এবং ১৯৮৭ সালে মাস্টার্স শেষপর্ব শ্রেণি শুরু হয় । তখন কয়েকজন ছাত্রী নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয় এবং তখনও  শিক্ষক সল্পতা ছিল। অনেক প্রতিকহলতার গন্ডি পেরিয়ে বর্তমানে এ বিভাগে ১৩ জন দক্ষ অভিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষকের তত্তাবধানে দুই সহস্রাধিক ছাত্রীর উপস্থিতি,উচ্ছ লতা, তারুন্য,প্রাণ চাঞ্চল্যের ছন্দে, সজীবতার সুর-ঝংকারে সুষমামন্ডিত হয় এখানকার নিত্যদিনের গন্ডিময় জীবন ।

 

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  বিভাগে ঐতিহাসিক তথ্য সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক সংবলিত একটি বড় সেমিনার চালু রয়েছে। এখানে ছাত্রীরা  নিয়মিত পড়ালেখা করে, যা ছাত্রীদের ভালো ফলাফলে সহায়ক ভূমিকা রাখে । এ বিভাগের ছাত্রীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত প্রতিটি চুড়ান্ত পরীক্ষায় বরাবরই ভালো ফলাফল করে আসছে । তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০সালে সম্মান শ্রেনিতে ২ জন, ২০০৯ , ২০১০ সালে মাস্টার্স ১ম পর্বে ২জন করে এবং ২০০৭ সালে মাস্টার্স শেষ পর্বে ১১ জন , ২০০৮ সালে ৬৪ জন , ২০০৯ সালে ৬৫ জন ২০১০ সালে ৭২ জন ২০১১ সালে ৭৮ জন প্রথম শ্রেণী প্রাপ্ত হয়ে এই বিভাগকে গৌরবান্বিত করেছে ।

 

এই বিভাগের ছাত্রীরা একাডেমিক ফলাফল ভালো করা ছাড়াও প্রতিবছর কলেজের আন্তঃক্রীড়া ও বহিঃক্রীড়া নাচ, গান, বিতর্ক, আবৃতি ও রচনা প্রতিযোগীতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড,বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, বি,এন, সি, সি সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, বৈশাখী মেলা, পিঠা উৎসব প্রভৃতি কার্যক্রমে সাফল্যের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। এ বিভাগের ছাত্রীরা কলেজেই শুধু নয় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার অর্জন করে কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করে আসছে । ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের জন্য শিক্ষা সফরে যাওয়ার এ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন , যা ছাত্রীদের পড়াশুনার সহায়ক ছাড়াও মনকে প্রফুল্ল ও সতেজ করে তোলে । এ বিভাগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যে শ্রদ্ধা ভাজন, গুনী শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা, দিক নির্দেশনা এবং সর্বাত্মক সহযোগীতায় আজকের এই বিভাগের গৌরবদীপ্ত পথচলা এবং বিভাগের সকল শিক্ষকের আন্তরিকতা,মেধা,শ্রম ও সহচর্যে ছাত্রীরা যাতে ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে এক একজন পরিপূর্ণ সার্থক ও আলোকিত মানুষ হতে পারে সেই প্রত্যশা রইল।